Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

 

*** ভূমিকম্প কমিটি (বিশেষজ্ঞরা ) বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প অঞ্চলে (SeismicZone)বিভক্ত করেছেন***

 

 

*** আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক একে চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে***

 

ক্রমিক নং

এলাকার বিরবণ

ভূমিকম্প অঞ্চল

১।

সর্বাধিক ক্ষতির এলাকা

(Major Damage Zone)

বৃহত্তর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং সিলেট।

২।

 

মৃদু ক্ষতির এলাকা

(Moderate Damage Zone)

বৃহত্তর রংপুর, পাবনা, ঢাকা, চিটাগাং পাহাড়ী অঞ্চল।

৩।

সামান্য ক্ষতির এলাকা

(Minor Damage Zone)

বৃহত্তর রাজশাহী, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, চিটাগাং, বান্দরবন, কুমিললা।

৪।

কোন ক্ষতি নয় এলাকা

(Negligible Damage Zone)

বৃহত্তর যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী এবং ভোলা।

 

 

*** বাংলাদেশে উলেলখযোগ্য ভূমিকম্প সংগঠিত হয় তার নমুনা ছক ***

 

 

ক্রমিক নং

তারিখ

অঞ্চল

মানা/রিখটার স্কেল

১।

১০ ফেব্রম্ন ১৯৬৪

কুষ্টিয়া

৫.৬

২।

১৯ জুন ১৯৬৩

রাজশাহী

৫.৭

৩।

১৩ জুন ১৯৬৪

চট্রগ্রাম

৫.৮

৪।

২১শে আগষ্ট/১৯৮৮

ঢাকা

৫.৬

 


 

 

*** সম্ভাব্য ভূমিকম্প মোকাবেলায় সচেতনতা ***

 

·                     ভূমিকম্প সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করম্নন।

·                     আপনার ভবনটি ভূমিকম্পে কতটুকু টেকসই তা জানুন।

·                     সকল স্থাপনা নির্মাণে বিল্ডিং কোড/ইমারত নির্মাণ আইন মেনে চলুন।

·                     ভূমিকম্প অনুভূত হলেই দ্রম্নত ঘর থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন।

·                     বৈদ্যুতিক খুঁটি/ তার বা ইমারত থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিন।

·                     দ্রম্নত বের হতে না পারলে কলামের গোড়ায় অথবা শক্ত খাট বা টেবিলের নীচে আশ্রয় নিন।

·                     ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করম্নন।

·                     আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করম্নন।

·                     ভূমিকম্প-উত্তর উদ্ধারকারীদের কাজে যথাসম্ভব সহায়তা করম্নন।

·                     রোগী, শিশু বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের রক্ষার্থে বিশেষ নজর দিন।

 

*** নতুন বাড়ীর ক্ষেত্রে (ভূমিকম্পের প্রস্ত্ততি) ***

 

·                     প্রথমেই মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। ওই জায়গার মাটি দেবে যাওয়ার প্রবণতা আছে কিনা তা দেখে বাড়ী নির্মাণ করতে হবে।

·                     দক্ষ প্রকৌশলীকে দিয়ে নকশা তৈরী ও তদারকি করানো দরকার।

·                     Foundationবা ভিত্তিতে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী রড ব্যবহার করতে হবে-যা ভূমিকম্পের ধাক্কায় সহনশীল।

·                     ভালোমা&&নর সিমেন্ট রড ও বালু ব্যবহার করতে হবে।

·                     ভিত্তির গ্রেডবিম ও কলামের সংযোগ স্থলে প্রয়োজনীয় কোড অনুযায়ী রড দিতে হবে।

·                     কলমের রডে বাধনগুলোর শেষ মাথা ১৩৫ ডিগ্রী হতে হবে এবং বাধনগুলোর মধ্যে ফাঁকা কম হবে।

·                     বীম কলামের সংযোগ স্থলে জোড়া (Splicing)লাগানো যাবে না।

·                     বহুতল ভবনে কনক্রিটের তৈরী লিফটের দেওয়াল প্রয়োজনমত থাকা উচিত।

·                     ভূমিকম্পের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত খরচ  হবে প্রতি বর্গফুট ১০ থেকে ১৫ টাকা।

 


 

*** পুরনো বাড়ীর ক্ষেত্রে (ভূমিকম্পের প্রস্ত্ততি) ***

 

·                     বাড়ীর কলামগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনমত কলামের আকৃতি বাড়াতে হবে এবং তা ভিত্তি থেকেই বাড়াতে হবে।

·                     দেওয়াল মজবুত করার জন্য ব্রেসিং (X-এর মতো বন্ধনী) পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

·                     বিম বা নীচ দিক থেকে আনুভূমিক ব্রেসিং দেওয়া যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোণাকোণি বা আনুভূমিক ব্রেসিং দেওয়া যেতে পারে।

·                     প্রয়োজনে নতুন করে মাটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটি দেবে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

·                     পুরাতন বাড়ীর ক্ষেত্রে ভূমিকম্প প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত খরচ প্রতিবর্গফুটে ৭০ থেকে ৯০ টাকা।

 

*** ভূমিকম্প ক্ষয়ক্ষতি নূণ্যতম রাখার জন্য কিছু উপায়  ***

 

·                     প্রতিটি ফেলারের ভারবহন ক্ষমতা সামঞ্জস্য রাখা। সবকটি  ফেলারের ভারবহন ক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তবেই বাড়ী অনেকটাই ভূমিকম্প সহনীয় হবে।

·                     বাড়ীর ভিত্তি নির্মাণের সময় কলাম এবং বিমের সংযোগ স্থলে বিশেষ শক্তিশালী রিং (Stirrup) স্থাপন করতে হবে। এ ধরনের রিং কলাম এবং বিমের দৃঢ়তা বাড়িয়ে দেয়।

·                     বিশেষজ্ঞদের মতে পার্কিং ফেলারের চারপাশে দেয়াল নির্মিত হলে ফেলারটি আরও বেশি চাপসহনক্ষম হবে।

 

*** ভূমিকম্প শেষে ধ্বংসস্ত্তপে আটকে গেলে কি করবেন  ***

 

·                     যদি আপনি বহুতল বিশিষ্ট বাড়ির উপরের দিকে কোন তলায় আটকা পড়েন, যদি বেরিয়ে আসার কোন পথ না থাকে, সাহস হারাবেন না, ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করম্নন, ভেবে দেখুন আপনার চিৎকার উদ্ধারকারী পর্যমত্ম পৌঁছাবে কিনা।

·                     বিম দেয়াল কনক্রিটের সলাব ইত্যাদির মধ্যে আপনার শরীরের কোন অংশ চাপা পরলে বেশি নড়াচড়া করবেন না। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।

·                     আপনার যেকোন উত্তেজনা ও ভয় আপনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সাহস হারাবেন না।